ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন দেশ এবং সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করিঃ মোখলেছুর রহমান মাসুম

ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন দেশ এবং সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করিঃ মোখলেছুর রহমান মাসুম

ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন মাদক-জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ এবং লালন করে নতুন করে দেশ গড়ার প্রত্যয় গ্রহন করি সবাই। পৃথিবীতে আমরা একমাত্র জাতি যারা ভাষা এবং পরে স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছি । বীর বাঙ্গালির একমাত্র নেতা বঙ্গবন্ধু যিনি আমাদের পরিচালিত করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে প্রাইভেট সেক্টরের উন্নতি সত্যিই ইর্ষণীয়। সারা বিশ্ব মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ ৬%। এটা অবশ্যই রিমার্ক এভল। বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বেশি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। আমরা সবাই ঘরে বসে সমালোচনা করি কিন্তু সহযোগিতা করি না। নতুন প্রজন্মের কথা বলি তাদের সম্পৃক্ত করি না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি একদিন হারিয়ে যাবে, যা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃজনক। যে কারণে যারা নেতৃত্বে আছেন, দেশ পরিচালনা করছেন তাদেরই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে, মুক্তিযুদ্ধে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে, মৌলবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে না, ধারণ করে না তারা কখনো দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না। মনে রাখতে হবে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে না তারা অত্যন্ত শক্তিশালী, তারা বিদেশে লবিং করছে, প্রপাগান্ডা করছে, সেইগুলো আমাদের প্রতিহত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। তা না হলে তারা একদিন হারিয়ে যাবে। ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই আমাদের মুক্তির সংগ্রামের বীজ রোপিত হয়েছিলো। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠি আমাদের নির্যাতন করেছে, বঞ্চিত করেছে, অধিকার খর্ব করেছে- সে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আসলে বাঙালির জীবনই গিয়েছে আন্দোলন এবং সংগ্রামের মাধ্যমে। এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। ‘একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও নিরক্ষরমুক্ত এবং আধুনিক ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ছয় বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন হয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত ।’ আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হই। পবিত্র সংবিধান ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখি। সন্ত্রাস ও হানাহানির পথ পরিহার করে দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিই। আজকের বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে দিকে পা বাড়িয়েছে। এখন নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ, ২০২১ সালে রূপকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ হবে, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালে মধ্যে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হবে। “এই যে নেতৃত্বের পথ ধরে একটি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া এবং এই জাতির মেধা প্রতিভা ও অপর সম্ভাবনাকে বিকশিত করার যে ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করা সে কাজটি অত্যন্ত সুনিপুনভাবে করে চলেছেন শেখ হাসিনা এবং সেখানে তাঁর অত্যন্ত সাহসিকতা সম্পন্ন দৃঢ় চেতা ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়।” এই উত্তরণ ও অগ্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজটি অত্যন্ত দুরূহ ছিল। ১৯৭৫ সালে পর দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের গণতান্ত্রিব অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন। গনতান্ত্রিক পরিবেশে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রগতি ও সংগ্রামের পথচলার মধ্যে বারবার তাঁর জীবনে আঘাত এসেছে। কিন্তু কোন কিছুই তাঁকে নিবৃত করতে পারেনি। তিনি তাঁর লক্ষ্যে অবিচল থেকে কাজ করে গেছেন, ঠিক যেমনিভাবে তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুকেও বারবার কারারুদ্ধ করে, এমনকি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে গিয়েও নিবৃত করা যায়নি। বাংলার মানুষের স্বাধীনতার জন্যে তিনিও অবিচল থেকে কাজ করে গেছেন। “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীন বাংলাদেশ রেখে গেছেন, যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, আসুন তাঁর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ ও জাতির আসনে অধিষ্ঠিত করি। এটাই হোক মুজিব বর্ষ উদযাপনের প্রত্যয়।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত