শিরোনাম :
নাইজেরিয়ায় কৃষক হত্যা : মৃত্যু বেড়ে ১১০, বছরের নৃশংসতম ঘটনা : জাতিসংঘ পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে দুদকের চিঠি যাচ্ছে আজ সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৮ আসামির ডিএনএ মিলেছে চিতলমারীর কৃতি সন্তান নজরুল ইসলামকে নব নির্বাচিত যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গাজীপুরে ঝুট-তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঠাকুরগাঁওয়ে পাট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডারদের উদ্বদ্ধকরণ সভা অটোরিকশা চাপায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু দৈনিক রুপবানি ও দৈনিক রুদ্রবার্তা পত্রিকায় মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করার প্রতিবাদে উত্তরায় মানববন্ধন কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ২০১৯ সালের নিবন্ধনকৃত স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্র বিতরণের শুভ উদ্বোধন মৃত ঘোষণার পর রাখা ছিল মর্গে, জ্ঞান ফিরতেই চিৎকার !
ড: মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা বিদ্যালয় গুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল ময়মনসিংহ

ড: মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা বিদ্যালয় গুড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহে চিকিৎসক মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি সিটি করপোরেশন কর্তৃক গুড়িয়ে দেওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সাধারণ মানুষ, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সচেতন নাগরিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। স্কুলটি চালুর দাবীতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও নানা ধরণের কর্মসুচী চলছে। শিক্ষানগরী খ্যাত ময়মনসিংহ হয়ে ওঠেছে প্রতিবাদে উত্তাল। করোনাকে তুচ্ছ করে পথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিবাবক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো।

স্কুলটির শিক্ষক কর্মচারীরা স্কুলের নতুন স্থান বরাদ্দের জন্য ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে স্কুলটি পুনরায় ফিরে পেতে মানববন্ধন করছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানীয় চেতন সমাজ ও আওয়ামী লীগের পক্ষে মানববন্ধন থেকে স্কুলটির নামে উক্ত জমিটি লীজ প্রদানের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রতি আহবান জানানো হচ্ছে।

মানবন্ধনে বক্তারা বলছেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের অনেক জায়গা বেদখল হয়ে আছে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই স্কুলটিকে কেন উচ্ছেদ করা হলো? এমন প্রশ্নে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সচেতন মহলের বদ্ধমূল ধারনা ‘স্কুলটি অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত পুত্র শুভর নামে হওয়ার কারনেই সিটি করপোরেশন এ কাজ করেছে।’ এ নিয়ে ময়মনসিংহের সকল স্থরের জনগণের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনা চলছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কি করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে পারে। অতি সত্বর উক্ত জমিটি স্কুলের নামে বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে স্কুলটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

স্কুলটি পুনরায় চালুর দাবীতে  শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিবাবকরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন। গতকাল এ বিষয়ে একটি অভিযোগ শিক্ষমন্ত্রণালয়ে পৌছেছে। এতে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে গত ৯ নভেম্বর সকালে ‘মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্কুলটি গুড়িয়ে দেয় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। জমির দখল নিয়ে সেখানে মালিকানার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের ২৬০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন নিয়ে পড়েছে  শিক্ষক ও কর্মচারীরা হয়ে পড়েন হতবাক।

এ বিষয়ে স্কুলটির সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন জানান, কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিটি করপোরেশন স্কুলটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। আমরা আদালতের রায় সম্পর্কিত কোন নোটিশ পাইনি। জমি সংক্রান্ত জটিলতায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক আদালতে মামলা করেন। পহেলা নভেম্বর ময়মনসিংহের একটি আদালত রায় দেন সিটি করপোরেশনের পক্ষে। আদালতের রায় পেয়েই পুলিশ ও মসিক ম্যাজিস্ট্রেট স্কুলটি গুড়িয়ে দেন।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, মসিকের সহকারী সচিব আমিনুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আঃ হালিম, সম্পত্তি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, মসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব উল আহসান ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

মসিকের সম্পত্তি কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, মসিকের দুই একর ৫৬ শতাংশ জমিতে সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত ছেলে ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভর নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধান্তে স্কুলটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নব গঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) জমিতে পড়েছে। তাই সিটি কর্পোরেশন স্কুলটি নিজেরা পরিচালনা করতে পারতো। অথবা স্কুলটি সড়িয়ে নেওয়ার জন্য কিছুদিন সময় দিতে পারতো। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো স্কুলে স্থানান্তর করতে পারতো। করোনাকালীণ সংকটের মধ্যে স্কুল উচ্ছেদে ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা। এ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠেছে ময়মনসিংহ শহরে। সিটি মেয়রেরর প্রতি ইঙ্গিত করে অনেকে বলছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার নজির স্থাপন করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন।

স্থানীয় শিক্ষাবিদ আখলাখ চৌধুরী বলেন, স্কুলটির স্থানে এক সময় ময়লা আবর্জন ফেলা হতো। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী যায়গাটিতে একটি স্কুল করার জন্য উদ্যোগ নেন।  তৎকালীন পৌর কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে স্কুলটি নির্মাণ করা হয়। শতভাগ পাশের রেকর্ড করা স্কুলটি ধ্বংস না করে সরকারী আওতাধীন করা যেত। এক্ষেত্রে স্কুলটি উচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ হিসাবে সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত চিকিৎসক পুত্রের নামে স্কুলটির নামকরণ হওয়াকে বড় করে দেখছেন স্থানীয়রা।

স্কুলটির সাবেক শিক্ষক হোসনে আরা বলেন, বর্তমান সরকার নারীশিক্ষা ও নারী অগ্রগতি তরান্বিত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার অবৈতনিক করে একাদশ শ্রেনী পর্যন্ত। অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় একটি চালু স্কুল ধ্বংস করে দেওয়া হলো। ক্ষমতার উৎস্য কোথায় তা জানতে চায় স্কুলটির অভিবাবকরা। স্কুল দখলের পায়তারায় আজ শিক্ষার্থীরা দিশেহারা। শিক্ষার্থীদের দায় কে নেবে।

উচ্ছেদকৃত স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হতাশাব্যাক্ত করে বলেন, হঠাৎ এ উচ্ছেদে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত