শিরোনাম :
হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরার মৃত্যু দুবলার চরে পূণ্যস্নান করে রাস উৎসব উদযাপন নিজে সন্তানের মাথা ফাটিয়ে কোলে নিয়ে ভিক্ষা ! করোনা আতঙ্ক: শ্রীলংকায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৬ নাইজেরিয়ায় কৃষক হত্যা : মৃত্যু বেড়ে ১১০, বছরের নৃশংসতম ঘটনা : জাতিসংঘ পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে দুদকের চিঠি যাচ্ছে আজ সিলেটের এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৮ আসামির ডিএনএ মিলেছে চিতলমারীর কৃতি সন্তান নজরুল ইসলামকে নব নির্বাচিত যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গাজীপুরে ঝুট-তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঠাকুরগাঁওয়ে পাট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডারদের উদ্বদ্ধকরণ সভা
রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি: জ্ঞানের ঘর অন্ধকার অধিকাংশ বই উইপোকা, তেলাপোকা কাটা

রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি: জ্ঞানের ঘর অন্ধকার অধিকাংশ বই উইপোকা, তেলাপোকা কাটা

অজয় সরকার দুলু ,রংপুর:    

তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর সাড়ে ১২টা। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির দরজা খোলা। একটু এগুলে দেখা মিলল এক বৃদ্ধের। একা বসে আছেন। কাছে যেতেই তিনি বললেন, বসে পত্রিকা পড়েন।

বুঝলাম তিনি পাঠকের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু লাইব্রেরিতে শুধু পত্রিকা কেন, বই নেই। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, আছে। তবে যা আছে, তার কোনোটাই পড়ার মত নয়।

তার কথা শেষ না হতেই চোখে পড়ল কয়েকটি আলমিরার দিকে। কোনোটার গ্লাস ভাঙা, কোনোটা বই শূন্য। আবার কোনোটাতে বই আছে, কিন্তু বোঝার উপায় নেই। তবে কিছু আলমিরায় পত্রিকার স্তুপ দেখা গেল। এসব ধুলোবালু আর মাকড়সার জালে সংরক্ষিত। মেঝেতে বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে আছে আরও কিছু পত্রিকা। লাইব্রেরির এমন করুণ দশার জন্য পাঠকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই বৃদ্ধ আজিজুল ইসলাম সানুর। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ জরার্র্জীন ভাঙা লাইব্রেরিকে আগলে রেখেছেন তিনি। বিনিময়ে মাস শেষে তার বেতন মাত্র আড়াই হাজার টাকা।

আজিজুল ইসলাম সানু রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির কেয়ারটেকার। ২০০৮ সাল থেকে ১শ’৬৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরির দেখাশুনা করছেন। সানুর টেবিলে পড়ে আছে একটা ভাঙা চশমা। সেটার অবস্থা আর লাইব্রেরির অবস্থা অনেকটা একই রকম। যেন লাইফ সাপোর্টে বেঁচে আছে।

১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ লাইব্রেরির ভেতর দেখে মনে হবে জ্ঞানের ঘরে আলো নেই। লাইব্রেরিয়ান নেই, বই নেই, পত্রিকা নেই, আলো নেই, ভালো পরিবেশ নেই ও টয়লেট নেই। এসব দেখভালের অভিভাবক নেই, নেই কমিটি , সংস্কার নেই। কোনো কোনো আলমিরাতে তালা নেই। বহু পুরোনো একটা টেবিলে কয়েকটা পত্রিকা পড়ে আছে, তবে প্লাষ্টিক চেয়ারে পাঠকের ভর নেই।

নেই শব্দে সমৃদ্ধ রংপুর পাবলিক লাইব্রেরিতে আধুনিকতার ছোঁয়াও নেই। এখানে কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা অন্য কোনো তথ্য প্রযুক্তির উপকরণের ব্যবহার নেই। চার কক্ষের লাইব্রেরির একটা কক্ষ পাশে নির্মাণাধীন বিভাগীয় শিল্পকলা একাডেমির পেটে চলে গেছে। বাকি তিনটার একটা পরিত্যক্ত। আর দু’টি কক্ষ সংস্কারের অভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে যেন কাঁদে। যার একটি হলরুম হিসেবে ভাড়া দিয়ে কিছু অর্থ মেলে। সেই অর্থে বেতন দেওয়া হয় সানু ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এ লাইব্রেরির জন্য আর কোনো বরাদ্দ নেই।

ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এ লাইব্রেরিতে এখন ফাটল ধরেছে। দেয়ালে জমেছে শেওলা। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে লাইব্রেরির কার্যক্রম। এখনকার ২০টি আলমিরার আটটি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুনত্ব না থাকায় আলমিরার স্তপের পুরাতন বই-পত্রিকা পাঠককে কাছে টানে না। অথচ একটা অন্ধকার ঘরে মাকড়সার জালে আলমিরাতে আটকে আছে বহু মানিদামি লেখকের বই। তাও নেহাত কম নয়, সংখ্যার হিসেবে অন্তত দেড় হাজার হবে।

লাইব্রেরিতে বসে বসে এসব জানলাম সানুর কাছ থেকে। এরই মধ্যে ঘড়ির কাঁটা দুপুর ২টা ছুঁই ছুঁই। এ দুই ঘণ্টায় দু’জন পাঠককে দেখ গেল। তারা এসেছেন পত্রিকায় পাতায় চোখ বুলাতে। কিছুক্ষণ পর চলেও গেলেন। সানু জানালেন, প্রতিদিন বিকেল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। দীর্ঘ এই সময়ে ১০/১৫ জন আসেন। তবে তারা পাঠক নন, আড্ডাবাজ।

গল্পে গল্পে যখন সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হন আজিজুল ইসলাম সানু, তখন তিনি বললেন, এক সময় এখানে অনেক বই ও পত্রিকার পাঠক ছিল। কিন্তু এখন পাঠক কমে গেছে। জনবল নেই। পড়ার উপযোগী কোনো বই নেই। কিছু পুরাতন বই আছে, তাও উইপোকা, তেলাপোকা কাটা, ধুলাবালু, বৃষ্টির পানি পড়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবেই নামে মাত্র টিকে আছে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাজেট আসলে সংস্কার করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত