মন্ত্রী গাজীর অনুপ্রেরণায় দাউদপুরে আঁধারে আলো ফুটালেন আব্দুস সাত্তার

মন্ত্রী গাজীর অনুপ্রেরণায় দাউদপুরে আঁধারে আলো ফুটালেন আব্দুস সাত্তার

রিপন মিয়া, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অজোপাড়াগায় খ্যাত দাউদপুরের খৈসাইর গ্রাম। শীতলক্ষ্যা পারের এ গ্রামটিতে ছিলো না তেমন শিক্ষার আলো কিংবা কর্মমুখর পরিবেশ। ক্ষেত খামারে চাষাবাদে আর ইটভাটায় দিনমজুরী করে কোন মতে চলতো এখানকার দরিদ্রদের সংসার। তবে ২০০৮ এর পর বিপ্লব ঘটে এ গ্রামের। পরিবর্তন আসে এখানকার বাসিন্দাদের। রূপগঞ্জের রাজনীতিতে বর্তমান পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক এমপি এ অঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির হাল ধরেন। সে সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাংশ মন্ত্রী গাজীর বিরোধীতা শুরু করেন। কিন্তু তার বিস্তস্থ কর্মী হয়ে ওঠেন খৈসাইর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে আব্দুস সাত্তার। গাজী বিরোধী প্রতিপক্ষের নানাবিধ হামলা,মামলা মোকাবেলা করে দাউদপুর উত্তরাঞ্চলে তৎকালীন গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)কের শান্তির বার্তা পৌছে দেন। গাজীর শক্ত রাজনৈতিক ভীত গড়তে কঠোর পরিশ্রম ও সহায়ক ভুমিকা রাখেন আব্দুস সাত্তার। শুরুতে ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সাত্তার। তার কর্মকান্ডে খুশি হয়ে স্থানীয়রা ২নং উত্তর খৈসাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন। এদিকে সে সময় বিদ্যালয়টিতে টিনসেড ভবন থাকলেও তার সভাপতির দায়িত্বকালেই বর্তমানে সেই বিদ্যালয়ে ৩তলা পাকা দালান শোভা পাচ্ছে। আর তার উন্নয়নে আব্দুস সাত্তারের ভূমিকা বিদ্যমান। পরে দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।
স্থানীয় জামে মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় তার সাধ্যমতো দান অনুদানের কথাও জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সালাহউদ্দিন মিয়া বলেন, আব্দুস সাত্তারের নিজস্ব দুটি ইটভাটা থাকায় আমরা গ্রামবাসি তার কাছে স্থানীয় ভিটেহীনদের কথা জানালে তিনি খৈসাইর গ্রামের ভিটেহীন মাজম আলীর ছেলে ছামাদ মিয়া, মানিক মিয়া, সৈয়দ আলীর ছেলে আবুল, মহসিনের ছেলে আমজাদ, উশানের ছেলে জহিরুলসহ ১৩জনের আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেন। এভাবে সাধারন মানুষের সেবায় আব্দুস সাত্তার তৎপর ছিলেন সব সময়। তবে কখনো জনপ্রতিনিধি হতে চেষ্টা করেননি। বিনাশর্তে রাজনীতির অঙ্গনে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, খৈসাইর গ্রামে সকলর শ্রেণির লোকজনের ভাগ্য পরিবর্তনে আব্দুস সাত্তারের ভুমিকা রয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তার বিশেষ নজরদারী আমাদের গর্বিত করে। তবে দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকরায় কিংবা তার ভালো কাজগুলো অনেকের ভালো না লাগায় প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে তাকে। আমরা গ্রামবাসি তার পাশে সব সময় ছিলাম। প্রয়োজনে থাকবো।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অজোপাড়াগা খ্যাত খৈসাইরের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা চিন্তা করে শীতলক্ষ্যা পারে একটি শিল্প কারখানা গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ছিলো তার। তাদের নিজের ৯ বিঘা জমিতে বহু শিল্পপতিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। ইটভাটা থাকায় অনেকেই সারা দেননি। তবে ২০১২ইং সনে হ্যামকো নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান এখানে শিল্প কারখানা গড়তে সম্মত হন। সেই হ্যামকোকে প্রথমে তাদের ৯ বিঘা জমি লিখিয়ে দিয়ে ভীত গড়েন আব্দুস সাত্তার। পরে সেই কোম্পানীর হয়ে আরো ৫০ বিঘা জমি ক্রয় করে দিয়ে এখন তাদের প্রতিষ্ঠান স্বগৌরবে চলমান। আব্দুস সাত্তারের দেয়া শর্তে কোম্পানীতে স্থানীয় হাজারের অধিক শ্রমিক কাজ করতে পারছে। পরিবর্তন চলে আসে খৈসাইরের। কর্মক্ষম ব্যক্তিরা ওই কারখানায় কাজ করে আর বাড়ি মালিকরা বাহিরের শ্রমিকদের ঘর ভারা দিয়ে আয় করছেন টাকা। গ্রামটিতে প্রবেশ করলে মনে হয় গ্রাম্য শহর। বাড়িতে বাড়িতে আধা পাকা ও পাকা ঘরবাড়ি। তাছাড়া আব্দুস সাত্তারের ইটা প্রস্তুত কারখানায় আরো শ্রমিকরা কাজ করছেন। বলা যায় বেকারত্ব হ্রাসে এ অঞ্চলে আব্দুস সাত্তার ব্যপক ভূমিকা রেখেছেন। তবে কারখানা প্রতিষ্ঠায় প্রতিপক্ষের হিংসা, প্রতিহিংসায় হামলা, মামলার শিকার হতে হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারে একটি পক্ষ বারবার আব্দুস সাত্তারের এ ভালো কাজে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। তবে বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ সফল শিল্পপতি ও সমাজসেবক হিসেবে সমাদৃত তিনি।
এসব বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, মন্ত্রী গাজীর অনুপ্রেরণায় দাউদপুরের উত্তরাঞ্চল খৈসাইর, আসলি পাড়া, কলিঙ্গাসহ আশপাশের হাজারো মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। তারা এখন সাবলম্বি। আমাদের এমপি একজন শিল্পপতি। তিনি শিল্পের পক্ষে থাকেন। তাই আমাদের এলাকায় এ শিল্পকারখানা আর্শিবাদ। রাজনীতিতে থেকে মানুষের জন্য এভাবে কাজ করতে পারলেই তৃপ্তি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত