দাকোপে মাদ্রসার শিক্ষক জাকারিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেও বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ

দাকোপে মাদ্রসার শিক্ষক জাকারিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেও বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ

গোলাম মোস্তফা খান, খুলনা :  দাকোপে এক শিক্ষক তথ্য গোপন করে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাগেছে চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদ্রাসার এমপিও ভুক্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষক জাকারিয়া হোসেন অত্র প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে বেতন-ভাতা তোলেণ একই সাথে বাগেরহাট জেলার রামপালের হাজী আরিফ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২০১০ সালের জুলাই মাসে নিয়োগ পায় এবং একই সালের সেপ্টেম্বর মাসে এমপিও ভুক্ত হয়ে সরকারী সকল বেতন ভাতা সুবিধাদী ভোগ করে আসছেন।
অন্যদিকে চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদ্রাসায় ২০১৫ সালের মার্চ মাসের ৫ তারিখে আরবি প্রভাষক পদে চাকুরী পেয়ে সরকারী সকল সুবিধা ভোগ করেন। শিক্ষক জাকারিয়া হোসেন দীর্ঘ প্রায় ৫/৬ বছর চালনা আলিম মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থেকে পূর্বের নিয়োগ পাওয়া রামপালের হাজী আরিফ বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থেকে শিক্ষাকতা করেন। ২০২০ সালের এপ্রিল/ মে মাস পর্যন্ত সরকারী সকল বেতন-ভাতা ভোগ করেন। এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের জেএসসি,এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের হল পরিদর্শকের ও বোর্ডের পরীক্ষক হিসাবে ২০২০ এপ্রিল পযর্ন্ত দায়ীত্ব পালন করে সরকারী অর্থ ভোগ করেন। তার স্কুলের এমপিও সিটের নং ৫৯০৮০৮১৩০৫, উওওঘ-১১৫২০৪। স্কুলের শিক্ষক হিসাবে তার শিক্ষক আইডি নং ক ১০৫০৪৪৮।
অন্যদিকে ২০১৯ সালে চালনা আলিম মাদ্রাসার নতুন এমপিও ভুক্ত তালিকায় ৩৫ নং সিরিয়ালে থাকলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অজিহুর রহমান পূর্বে নিয়োগ পাওয়া যেসব শিক্ষক বেতন ভাতা না পেয়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকতা করছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে ব্যার্থ হয়ে অধ্যক্ষ অজিহুর রহমান গোপন চুক্তির মাধ্যমে জাকারিয়া হোসেনের নাম এমপিও ভুক্তির জন্য মাদ্রাসা অধিদপ্তরে পাঠায়। জাকারিয়া হোসেন দীর্ঘদিন চালনা বিল্লালিয়া আলিম মাদ্রাসায় হাজির না থাকার প্রমান মেলে দৈনিক হাজিরা খাতায়। এলাকার সচেতন মানুষের প্রশ্ন দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় হাজির না থেকে এমপিও ভুক্ত হলেন কি ভাবে? পরবর্তীতে ২০২০ সালের মে মাসের ১৭ তারিখে মাদ্রাসার বেতন বিলে এমপিও সিটে ২ টি ঈদ উৎসব ভাতা এবং বৈশাখী উৎসব ভাতাসহ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১০ মাসের বেতন ভাতা তুলে নেয়। যার এপিও নং ৬০০২০৪২১০১, উওওঘ ১১৬৯১৭, শিক্ষক ইনডেক্স নং গ০০০১৪৪৬ এর মাধ্যমে চালনা বাজার রুপালী ব্যাংক হিসাব নং ঝই ২৯০৭০১১০১৪৮৯৪ এ জমা হলে জাকারিয়া তুলে নেন বলে খবর প্রকাশ পায়। অন্যদিকে ২০২০ সালের মে মাসের বেতন বিল রামপাল সোনালী ব্যাংকের ৬৩৩১/১৮ নং হিসাবে জমা হলে তুলে নেন। আবার চালনা বিল্লালিয়া অলিয়া মাদ্রাসার বেতন বিল চালনা বাজার রুপালী ব্যাংকে তার হিসাব একাউন্টে জমা হয়েছে। একই শিক্ষকের দুই জেলার দুইটি ব্যাংকের বেতন একাউন্টে বেতন জমা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাকারিয়া হোসেনের কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বেতন ভাতা তোলার কথা অস্বীকার করে বলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অজিহুর রহমানের সাথে কথা বলেন।
এব্যাপারে অধ্যক্ষ অজিহুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,শিক্ষক জাকারিয়া অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা বেতন ভাতা বাবদ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ছিলো তা জানারপর ফেরত দিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অত্র প্রতিষ্টানের সভাপতি বিধায় তার সাথে কথা বলেন। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চালনা বিল্লালিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, একই ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে সরকারী বেতন তোলা গুরতর অপরাধ।বিষয়টি জানার পর জাকারিয়া শিক্ষকের ১০ মাসের বেতন দুই লক্ষ টাকার অধিক কর্তন করে সে টাকা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত