শিরোনাম :
কাশিমপুর থানার অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ঢাকা ১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মোহাম্মদ হাবীব হাসান আলোচনার শীর্ষে নাগরপুরে বানভাসিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত লালপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলায় হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিক নওগাঁ রাণীনগরে অগ্নিকান্ডে ৫ লক্ষাধীক টাকার মালামাল ভস্মিভূত বড়াইগ্রামে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ায় ১৫ পরিবহনকে জরিমানা অস্বাভাবিক জোয়ারে কমলনগরে ২০ টি গ্রাম প্লাবিত
‘করোনায় মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না’

‘করোনায় মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না’

করোনা পরিস্থিতির দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ঘোষিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। 

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতির মূল্যায়ন করতে দিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। 

এতে মতামত দিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির ধরন এবং এতে খাতভিত্তিক (সরকারি-বেসরকারি) ঋণ সরবরাহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার হারকে তারা সময়োপযোগী বললেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। এই অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রায় একই মতামত রেখে বলেছেন, দেশের চলমান অর্থনীতি এখন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। চাহিদা ও সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে। ফলে মুনাফা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশের যথেষ্ট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আসছে না বিদেশি বিনিয়োগ। দেশীয় উদ্যোক্তারাও ভুগছেন অনিশ্চয়তায়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারিখাতে স্থবিরতার কারণে সামগ্রিক উৎপাদন এবং ভোগ্য চাহিদা কমে গেছে। মানুষ ভেবেচিন্তে অর্থ খরচ করছে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতিরও তথৈবচ অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা কতটা বিনিয়োগ ঝুঁকি নেবেন সেই অনিশ্চয়তা সবার মধ্যেই স্পষ্ট। 

তারা বলেন, বিনিয়োগ না হলে ঋণ চাহিদা তৈরি হবে না। ঋণের চাহিদা না থাকলে সরকারিখাতের তুলনায় বেসরকারিখাতে কম ঋণের (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ) লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না। একইভাবে সরকারিখাতে বেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য সত্ত্বেও এই নির্ধারিত হারও শেষ পর্যন্ত অটুট থাকবে না। কারণ অভ্যন্তরীণ রাজস্বখাত থেকে চাহিদামতো আয় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিদেশি উৎস্য থেকেও আশানুরূপ ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে সরকারকে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং উৎসেই হাত পাততে হবে। এতে বছর শেষে দেখা যাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আরও বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এটা আবার বেসরকারিখাতে ঋণ চাহিদা তৈরি হলে ব্যাংকের ঋণ যোগান দেয়ার সক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
 
ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, মুদ্রানীতির সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কেমন হবে তার উপর। 

তিনি বলেন, অর্থনীতিতে এখন সাপ্লাই এবং ডিমান্ড উভয়সাইটেই সমস্যা প্রবল। রপ্তানিবাজার এবং এর থেকে আয় সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দার কারণে সেখানেও চাহিদার সংকট থাকায় সহসাই এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। দেশেও যদি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগমুখী না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক চক্র (উৎপাদন, চাহিদা, কর্মসংস্থান, আয়-ব্যয় এবং ভোগ) মারাত্মক বাঁধাগ্রস্ত হবে। এতে মুদ্রানীতির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা হেরফের হতে বাধ্য। 

ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শংকা প্রকাশ করে আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ঋণ যদি উৎপাদনমুখী কর্মসৃষ্টি সহায়কখাতে ব্যয় না হয় এবং সহায়ক পরিবেশের ঘাটতি দূর করা না যায়, তাহলে মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে তিনি চাহিদা অনুযায়ী ঋণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কৌশল অবলম্বন এবং বেসরকারি ঋণের ব্যবহার যথাযথ হচ্ছে, না অন্যখাতে ব্যয় কিংবা পাচারে চলে যাচ্ছে, তা কঠোর মনিটরিংয়ের পরামর্শ রাখেন। 

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, মুদ্রানীতির কৌশলগুলো সঠিক হলেও এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুদ্রানীতির লক্ষ্যগুলো ঠিক থাকবে না।  

ঋণ প্রবৃদ্ধির পর্যালোচনা দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারিখাতের প্রবৃদ্ধির হার আগের বছরের হারে (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ) অপরিবর্তিত রাখা হলেও সেটিও কিন্তু অর্জিত হয়নি।  লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ ঋণ সরবরাহ করা গেছে। এর কারণ বেসরকারিখাতের ঋণ চাহিদা কমে গেছে। এই স্তর থেকে লাফ দিয়ে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছানো খুবই কঠিন হবে। অন্যদিকে মুদ্রানীতির লক্ষ্য অনুযায়ী সরকারের ঋণ ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশে বেঁধে রাখাও সম্ভব হবে না। 

তিনি বলেন, আয়ের খাত দুর্বল হয়ে পড়ায় বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে আরও বেশি অর্থ নিতে হবে। সরকার ব্যাংক ঋণ দিতে বাধ্য। ফলে ঘোষিত মুদ্রানীতি সংশোধন করে সরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়াতে হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত