শিরোনাম :
বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বাড়াতে চায় আলজেরিয়া কোন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যেন জাতীয় শোক দিবসের পরিবেশ নষ্ট না হয় -ওবায়দুল কাদের করোনায় বড়াইগ্রাম থানার ওসি তদন্ত সুমন আলীর মৃত্যু চাষী আহবায়ক ও বাবু সদস্য সচিব: বিএমএসএফ কুমিল্লা জেলা কমিটি গঠন আগামীকাল জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী শ্রীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর আলী সড়কের উপর প্রাচীর নির্মানের অভিযোগ গাজীপুরে মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশে দেওয়ায় পল্লী চিকিৎসককে হত্যার হুমকি ও বাড়িতে হামলা ক্ষুদ্র – নৃ – গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বড়াইগ্রামে জমজমাট শ্রমিকের হাট বনপাড়া পৌর মেয়রের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাবনা-২ আসনের এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির
করোনায় বেড়েই চলছে বেকারত্বের হার –ওসমান গনি

করোনায় বেড়েই চলছে বেকারত্বের হার –ওসমান গনি

বেকারত্ব সমস্যা দেশের একটি জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা টি আমাদের দেশে বহু আগ থেকেই লেগে আসছে। বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের জন্য শত চেষ্টা করা হচ্ছিল। তারপরও সমস্যার কোন কুলকিনারা করা যাচ্ছে না। আগের বেকার সমস্যার সাথে আরোও নতুন করে করে যোগ হচ্ছে প্রবাসী বেকার লোকের সংখ্যা। যা সামাল দিতে আমাদের মতো গরীবদেশে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের মূল উৎস হলো বিদেশী রেমিটেন্স ও দক্ষ জনগোষ্ঠী। মহামারি করোনার কারনে বিদেশে আমাদের শ্রমশক্তি রপ্তানি ও আমদানি একবারে নিঃস্ব অবস্থা। আমাদের দেশের মোট জনশক্তি এক কোটির ও বেশী লোক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের শ্রম বিক্রি করে দেশে টাকা পাঠায়। আমাদের দেশ আজ সারাবিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নেয়ার পেছনে বিদেশী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অবদান সবচেয়ে বেশী।এসব বিদেশী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাঠানো ১৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এই আর্থিক খাতটি একেবারে থমকে গেছে। গত ৪টি মাস নতুন করে জনশক্তি রফতানি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাস যেখানে ১ লাখ ৮১ হাজার শ্রমিক দেশের বাইরে গেছে, সেখানে গত চার মাসে একটিও জনশক্তি রফতানি হয়নি। এর ফলে দেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিকে যেমন দেশে বেকারত্বের হার বাড়বে, অপরদিকে বাড়বে সামাজিক অবক্ষয়। এদিকে অর্থ ও মানবপাচার এবং ভিসা বাণিজ্যের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম পাপুলের কারণে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্রধান অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি বাধাগ্রস্ত হবে তার জন্য। তা ছাড়া রিজেন্ট হাসাপাতালের করোনার জাল সার্টিফিকেট ব্যবসা বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিতে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অবস্থায় জনশক্তি খাতের গতি অব্যাহত রাখতে সরকারকে এসব দুর্নাম ঘুচিয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নেবার আহবান জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদরা। মহামারি করোনার কারণে এমনিতেই চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রফতানি খাত। ধনী-গরিব সব দেশের অর্থনীতিই ভঙ্গুর দশা করোনায়। ফলে অনেক ধনী দেশও শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের দেশের দুটি ঘটনা শ্রমবাজারকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। পাপুল কান্ড এবং রিজেন্টের ভয়াবহ জালিয়াতি দেশের অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। সরকারের উচিত এসব ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তোলা। পাপুলের মতো অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং করোনার জাল সার্টিফিকেটের বিষয়টি যে সরকার খুবই গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি দৃশ্যমান করা দরকার। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের হারানো ইমেজ দ্রুত ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে, চলতি ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২১৮ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে গেছে ৬৯ হাজার ৯৮৮ জন। তা ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে গেছে ৫৯ হাজার ১৩৯ জন এবং মার্চে গেছে ৫২ হাজার ৯১ জন। এই তিন মাসে কেবল সৌদি আরবেই গেছে মোট জনশক্তি রফতানির ৭৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, সংখ্যায় যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৭ জন। গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তারপর মার্চে কিছু জনশক্তি রফতানি হলেও পরের মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে একেবারে বন্ধ হয়ে যায় জনশক্তি রফতানি। এপ্রিল, মে, জুন এবং জুলাই মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত নতুন করে আর একজন শ্রমিকও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যায়নি। করোনা জনশক্তি রফতানি খাতকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অন্যান্য খাত কিন্তু অনেকখানিই সচল হয়ে গেছে, কিন্তু জনশক্তি রফতানি খাত এখনও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। জানি না এ অবস্থা থেকে আমরা কবে পরিত্রাণ পাব। এ ব্যবসার সাথে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এর আগে কখনও এত খারাপ অবস্থায় পড়েনি জনশক্তি খাত। সরকার অনেক খাতকেই আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে কিন্তু এই খাতের জন্য সরকার কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা হয়নি। এ খাতটির দিকেও সরকারের নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন দেশের বিজ্ঞমহল।সামনে আরও ভোগান্তি বাড়বে বিদেশগামী শ্রমিকদেররিজেন্ট হাসপাতালের করোনার জাল সার্টিফিকেট বাণিজ্যের কারণে। সামনের দিনগুলোতে বিদেশগামী বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। কারণ এই কেলেঙ্কারির পর দেশে আসতে করোনা পরীক্ষার সনদ না লাগলেও বাংলাদেশ ত্যাগ করতে এই সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশগামী ব্যক্তিদের সনদ সংগ্রহের জন্য দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে মাত্র ১৪টি জেলায় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সনদ পেতে তাদের দিতে হবে ১৭ গুণ অতিরিক্ত ফি। ফলে করোনা পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের, যারা দেশে এসে আটকা পড়েছিলেন, এখন আবারও ফিরে যেতে চাচ্ছেন এবং যারা চাকরি নিয়ে এই প্রথম বিদেশ যাচ্ছেন।অপরদিকে আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশের ভেতরে বা বিদেশ গেলে যাত্রীদের দিতে হবে যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি। সব মিলিয়ে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশ যেতে বেড়েছে বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিদেশ গমনেচ্ছু যাত্রীদের কোভিড-১৯ মুক্ত সনদ নিয়ে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ১৯ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, ২৩ জুলাই থেকে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিদেশ গমনকারী সকল এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের কোভিড পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক। কোভিড-১৯ পরীক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়। বিদেশগামী যাত্রীকে বিমানযাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা জমা দিতে হবে। যেকোনো ব্যক্তির জন্য করোনা পরীক্ষার সরকার নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা। কিন্তু বিদেশগামী যাত্রীদের সশরীরে ল্যাবে গিয়ে পরীক্ষার জন্য দিতে হবে ৩৫০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে ফি দিতে হবে ৪৫০০ টাকা।বিদেশফেরত বেকারদের পাশে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকএদিকে চারদিকে খারাপ খবরের মাঝেও ভালো খবর হচ্ছে বিদেশ থেকে যেসব শ্রমিক বেকার হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ১১ খাতে বিদেশফেরত কর্মহীনদের ঋণ দেবার ব্যবস্থা করছে ব্যাংকটি। এরই মধ্যে বিদেশফেরত প্রবাসী কর্মী এবং মৃত কর্মীর পরিবারের জন্য পুনর্বাসন ঋণ বিতরণের নীতিমালা প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মাত্র চার শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ শুরু করেছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সূত্রমতে, যারা বিদেশে কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন, তাদের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই ঋণ দেওয়া হবে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য। ঋণের টাকা দিয়ে তারা মুরগির খামার, গরুর খামার করতে পারবে। গত ১৫ জুলাই থেকে এই ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে ১১ খাতে ঋণ দেওয়া হবে সেগুলো হলো কৃষিঋণ প্রকল্প, মাঝারি ধরনের কৃষিনির্ভর শিল্পঋণ প্রকল্প, মুরগির খামার প্রকল্প, মৎস্য চাষ প্রকল্প, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট প্রকল্প, সৌর জ্বালানি খাত প্রকল্প, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা ঋণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প প্রকল্প, গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প, দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামার প্রকল্প। মূলত করোনা সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের ১ মার্চের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীরা পাবেন এই ঋণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত