নওগাঁর মান্দায় টাকা দান করার ঘোষনাকে কেন্দ্র করে খুন -১, আহত-১

নওগাঁর মান্দায় টাকা দান করার ঘোষনাকে কেন্দ্র করে খুন -১, আহত-১

হাবিব স্টাফ রিপোর্টারঃ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার সাত পাড়া বাদলঘাটা (উত্তরপাড়া) গতকাল ০৫/০৬/২০২০  ইং তারিখ রোজ শুক্রবার জামে মসজিদের দানের টাকা ঘোষণা দেয়াকে কেন্দ্র করে, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন (৪০) নামের একজনকে মাথায় নির্মম ভাবে সাবল দিয়ে আঘাত করে খুন করে পার্শবর্তী বাড়ীর কুখ্যাত জলিল চোরা ও তার ৩ টা ছেলে। নিহত,র আরেক ভাই শিক্ষক মোঃ মকলেছার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছেন। সরজমিনে গিয়ে জানা যায়,উক্ত গ্রামের মৃতঃ ফয়েজ উদ্দীন মোল্যার ছেলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের ভাই  শিক্ষক মকলেছার রহমান (৪২)জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক।উত্তরপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নকল্পে স্থানীয় দুইব্যক্তি একজন ৫০০ টাকা দান করেন, আরেকজন ৩০০ টাকা দান করেন। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের অবহিত করতে দানের এ টাকার ঘোষণা দেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মকলেছার রহমান। ঘোষনা দেওয়ার পর আবদুল জলিলের ছেলে শাকিল হোসেন ঘোষনা কেন দিলো এ বিষয়ে জানতে চায়, মকলেছার বলে এটা সকল মানুষের জানার বিষয় আছে,সকলকে জানানো ভালো এরপরও সেক্রেটারি মকলেছার রহমানকে বিভিন্ন ভাবে গালা-গালী করতে থাকে এবং ধাক্কা-ধাক্কি শুরু করে। এ নিয়ে স্থানীয়রা জলিলের ছেলে শাকিল কে চলে যেতে বলে। এরপর শাকিল তার বাপ ও ভাইদের ডেকে রাস্তা উৎপেতে থাকে। মকলেছার বাড়ীতে আসতে লাগলে উৎপেতে থাকা কুখ্যাত জলিল চোরা ও তার ছেলেরা মকলেছারকে এলোপাতারী ভাবে লোহার রড ও সাবল দিয়ে মারতে শুরু করে। এর পর তার ডাক চিৎকারে আরেক ভাই তোফাজ্জল এগিয়ে আসলে তাকেও সাবল দিয়ে নির্মম ভাবে মাথায় বার বার আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে প্রথমে তাদের মান্দা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়,পরবর্তীতে অবস্থা খারাপ হইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আজ শনিবার ০৬/০৬/২০২০ ইং তারিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক তোফাজ্জল হোসেন (৪০) মারা যায়। । গতকাল শুক্রবার নিহতের ছোটভাই হেলাল হোসেন বাদি হয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় জলিলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু আজ শনিবার তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় বাসীরা, জলিল চোরা ও তার ছেলেদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ,ওই বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা জলিল চোরা ও তার পুত্রবধূ নার্গিস বেগমসহ তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুইজন আসামীদের আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নাম না প্রকাশ শর্তে একজন জানান, পুর্বে থেকে জলিল চোরা ও মকলেছারদের মধ্য বাড়ীর কাছেই জমি-জমা সংক্লান্ত একটি বিবাধ চলে আসছিলো। যার ফলোশ্রুতিতে জলিল চোরা ও তার ছেলেরা মকলেছার ও তোফাজ্জলদের মারার জন্য সুযোগ খুঁজছিলো। দান করা ঘোষনা দেওয়া মুল বিষয় নয়, তাদের দু,ভাইকে সুযোগ বুঝে মেরে ফেলায় ছিলো তাদের প্রধান উদ্দ্যেশ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




কপিরাইট © ডেইলি আলোকিত সকাল - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত